1. admin@banglarsangbadprotidin.com : admin :
  2. banglarsangbadprotidin@gmail.com : banglar sangbad : banglar sangbad
৩০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ১৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| বর্ষাকাল| মঙ্গলবার| সকাল ৬:৪৫|

ভারতে মুসলিম বাড়িতে হামলা , আহত ৭ পুলিশ

রিপোর্টার নাম:
  • আপডেট সময় : রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ১৬১ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যের গ্যারিয়াবন্দ জেলায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় অর্ধডজনের বেশি মুসলিম পরিবারের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে অন্তত সাতজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

গত ১ ফেব্রুয়ারি জেলার দুতকাইয়া গ্রামে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী এই সহিংসতা চলে। দ্য হিন্দু–র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তেজিত জনতার হাত থেকে নারী ও শিশুসহ ২০ জনের বেশি মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে গিয়ে পুলিশকে চরম চাপে পড়তে হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, স্থানীয় কয়েকজনের ওপর কথিত হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সহিংসতার সূত্রপাত ঘটে। অভিযুক্তদের একজন আরিফ খান, যিনি ২০২৪ সালে একটি শিব মন্দির ভাঙচুরের মামলায় অভিযুক্ত হয়ে কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে ছিলেন এবং বর্তমানে জামিনে মুক্ত আছেন।

গ্যারিয়াবন্দের পুলিশ সুপার বেদব্রত সিরমাউর জানান, আরিফ খান ও তার দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে গ্রামের চবেশ্বর শিব মন্দির ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠার পর তাকে সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি দীর্ঘদিন গ্রামে ফেরেননি। তবে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর ১ ফেব্রুয়ারি ভোরে তিনি গ্রামে ফিরে এসে রায়পুর থেকে আসা দুই সহযোগীকে নিয়ে অন্তত চারজন স্থানীয় বাসিন্দাকে মারধর করেন। আহতদের মধ্যে মন্দির ভাঙচুর মামলার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন।

এই ঘটনার পর লাঠি, ইট, পাথর ও কেরোসিনের বোতল হাতে নিয়ে দুতকাইয়া ও আশপাশের গ্রামের কয়েকশ মানুষ একত্রিত হয়ে অন্তত ১০টি মুসলিম পরিবারের বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা চালায়। পরিবারগুলো তখন দরজা বন্ধ করে ঘরের ভেতরে আশ্রয় নেয়।

এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, উত্তেজিত জনতা যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং মুসলিম পরিবারগুলোর বাড়িতে ঢোকার দাবি তোলে। রাজ্যের বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ ‘রাজিম কুম্ভ’ চলার কারণে পুলিশ জনবল সংকটে ছিল। তবুও পুলিশ কয়েক ঘণ্টা ধরে পাহারা দিয়ে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করে।

পুলিশের সব শান্তিপূর্ণ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে বলপ্রয়োগ করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করা হয়। পরে একটি বাসে করে বাড়িগুলোতে আটকে থাকা ২০ জনের বেশি বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

এই ঘটনায় দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক বাসিন্দা আহত হন। পাশাপাশি ছয়জন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন এবং একজন পুলিশ সদস্য জনতার ছোড়া ইটের আঘাতে মাথায় মারাত্মকভাবে আহত হন বলে দ্য হিন্দু জানিয়েছে।

ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে প্রশাসন কাজ করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ ক্যাটাগরির আরো নিউজ
© All rights reserved © 2014 banglarsangbadprotidin.com